
সরকারিHigh School
গাইবান্ধা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
গাইবান্ধা → গাইবান্ধা সদর
প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে
গাইবান্ধা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় আমার কাছে কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং আমার বেড়ে ওঠার শ্রেষ্ঠ ঠিকানা। ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি গাইবান্ধা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এবং দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে নারী শিক্ষার আলোকবর্তিকা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। শহরের ব্যস্ততার মাঝেও স্কুল আঙিনায় পা রাখলেই যেন এক অদ্ভুত প্রশান্তি অনুভব করি। পুরোনো আমলের সুদৃশ্য ভবন, খেলার মাঠ আর গাছপালার ছায়াঘেরা পরিবেশ আমাদের শৈশব ও কৈশোরের সোনালী স্মৃতিগুলোর সাক্ষী হয়ে আছে।
এই বিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে রয়েছে বহু অর্জন। খেলাধুলা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা কিংবা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আমাদের স্কুলের ছাত্রীরা বরাবরই জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রেখে আসছে। কেবল পাঠ্যবই নয়, বরং মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের শিক্ষায় এই প্রতিষ্ঠান আমাদের ঋণী করেছে। আমার মতো এমন অসংখ্য শিক্ষার্থী এই আঙিনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আজ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে সফলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মরহুম ড. এম. ওসমান ফারুকসহ আরও অনেক গুণী ব্যক্তিত্বের স্মৃতি বিজড়িত এই বিদ্যাপীঠ আমাদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।
বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ছোঁয়া লেগেছে। দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলীর তত্ত্বাবধানে পাঠদান কার্যক্রম অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে পরিচালিত হয়। সৃজনশীল পদ্ধতি ও ডিজিটাল ক্লাসরুমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এখন অনেক বেশি সক্রিয়ভাবে শিখছে। একাডেমিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি সহ-শিক্ষা কার্যক্রমকেও এখানে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। আজও যখন শহরের পাশ দিয়ে যাই, স্কুলের বেল বাজার শব্দ শুনলে পুরোনো দিনগুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। গর্বভরে বলতে পারি, আমি এই স্কুলের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী—যেখান থেকে আমি কেবল সার্টিফিকেট নয়, বরং মাথা উঁচু করে বাঁচার আত্মবিশ্বাস পেয়েছি।


প্রতিষ্ঠানের মন্তব্য(0)