
সরকারিCollege
গাইবান্ধা মহিলা কলেজ
গাইবান্ধা → গাইবান্ধা সদর
প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে
গাইবান্ধা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ‘গাইবান্ধা মহিলা কলেজ’ আমার কাছে কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং আমার বেড়ে ওঠার এক অনন্য আঙিনা। ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি আমাদের জেলার নারী শিক্ষার আলোকবর্তিকা হিসেবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে। শহরের মূল কেন্দ্র থেকে কিছুটা নিরিবিলি অথচ যাতায়াতের সুবিধাজনক স্থানে অবস্থিত এই ক্যাম্পাসের সবুজ ছায়াঘেরা পরিবেশ যে কাউকে মুগ্ধ করে। কলেজের প্রাচীন দালানগুলো যেন আজও আমাদের সেই সোনালী দিনগুলোর স্মৃতি বহন করে চলেছে, যেখানে ক্লাসের ফাঁকে বন্ধুদের সাথে আড্ডা আর শিক্ষকদের শাসন-স্নেহের মিশ্রণে আমরা বড় হয়েছি।
শিক্ষার গুণগত মান এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই কলেজের সুনাম বরাবরই অনন্য। আমাদের এই বিদ্যাপীঠ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আজ অনেকেই দেশ ও বিদেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। বিশেষ করে, গাইবান্ধার কৃতি সন্তান ও সমাজসেবী ড. এম. এ. ওয়াজেদ মিয়ার মতো ব্যক্তিত্বদের আদর্শ আমাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করে। বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং বিতর্ক সভায় আমাদের কলেজের ছাত্রীদের অংশগ্রহণ সবসময়ই প্রশংসনীয়। পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে আমাদের এগিয়ে থাকার সেই ঐতিহ্য আজও অটুট।
বর্তমানে ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কলেজের একাডেমিক কার্যক্রমে এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দের নিবিড় তত্ত্বাবধানে এখানে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের পাঠদান অত্যন্ত সহজ ও সাবলীলভাবে পরিচালিত হয়। পাঠ্যপুস্তকের গণ্ডি পেরিয়ে ছাত্রীদের আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে এখানে নিয়মিত সেমিনার, ওয়ার্কশপ এবং ক্যারিয়ার গাইডেন্সের আয়োজন করা হয়। একঝাঁক স্বপ্নীল তরুণীর কোলাহলে মুখরিত এই কলেজটি আজও গাইবান্ধার নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রায় এক অবিচল স্তম্ভ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ধূলিকণার সাথে আমার যে আত্মিক টান, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।


প্রতিষ্ঠানের মন্তব্য(0)