
সরকারিHigh School
কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠিত1895
প্রধানজিয়াসমিন আরা হক
কুড়িগ্রাম → কুড়িগ্রাম সদর
প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে
কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার কলেজ পাড়ায় অবস্থিত একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৮৯৫ সালে বীরেশ্বর রায়ের হাত ধরে ‘কুড়িগ্রাম হাই ইংলিশ স্কুল’ নামে ৭.৬ একর সুবিশাল জায়গাজুড়ে এই বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয়। সুদীর্ঘকাল ধরে শিক্ষার আলো ছড়ানোর পর ১৯৬৮ সালের ১৫ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারিীকরণ করা হয়। সূচনালগ্নে টিনশেড ঘরে পাঠদান হলেও বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে রয়েছে সুরম্য বহুতল ভবন, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, বিজ্ঞান ও অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, একটি বিশাল খেলার মাঠ এবং দূরবর্তী শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৫ আসনবিশিষ্ট একটি ছাত্রাবাস।
এটি মূলত জেলার শীর্ষস্থানীয় একটি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, যেখানে বর্তমানে জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বাংলা মাধ্যমে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। শিক্ষার্থীর আধিক্যের কারণে বিদ্যালয়টিতে 'প্রভাতী' ও 'দিবা'—এই দুই শিফটে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পুঁথিগত বিদ্যা বা প্রথাগত একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি এখানকার শিক্ষার্থীরা নিয়মিতভাবে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, স্কাউটিং, খেলাধুলা এবং রেড ক্রিসেন্ট কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে। প্রতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় জেলায় শীর্ষস্থান দখলের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করছে।
শতবর্ষী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি তার সুদীর্ঘ পথচলায় অসংখ্য কীর্তিমান ও গুণী মানুষের জন্ম দিয়েছে। বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, জনপ্রিয় অভিনেতা ডা. এজাজুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ রুহুল কবির রিজভীসহ দেশের স্বনামধন্য অনেক ব্যক্তিবর্গ এই বিদ্যালয়েরই প্রাক্তন শিক্ষার্থী। সম্প্রতি বিদ্যালয়টি এর প্রতিষ্ঠার সোয়া শতাব্দীরও (১২৫ বছর) বেশি সময় পার করেছে এবং আজও কুড়িগ্রাম জেলার শিক্ষাবিস্তারে এক অবিসংবাদিত বাতিঘর হিসেবে সগৌরবে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে।


প্রতিষ্ঠানের মন্তব্য(1)
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত করা প্রয়োজন...