
ধরলা নদী(River)
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বুক চিরে প্রবাহিত ধরলা নদী এই অঞ্চলের জীবন ও অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি।
ভৌগোলিকভাবে এটি হিমালয় থেকে নেমে আসা একটি খরস্রোতা নদী, যা বর্ষায় বিধ্বংসী রূপ নিলেও শুষ্ক মৌসুমে শান্ত থাকে।
নদীর ওপর নির্মিত ‘ধরলা সেতু’ এখানকার প্রধান দর্শনীয় স্থান, যা জেলা সদরের সাথে ফুলবাড়ী ও নাগেশ্বরী উপজেলার সংযোগ স্থাপন করেছে।
সেতুর দুই পাড়ে গড়ে ওঠা মনোরম পরিবেশ পর্যটকদের জন্য দারুণ বিনোদনের কেন্দ্র।
সাম্প্রতিক সময়ে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে ধরলার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম সদরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করেছিল।
এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়লে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা ত্রাণ তৎপরতা চালিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন।
এছাড়া, নদীর চরাঞ্চলে বসবাসরত মানুষের জীবনযাত্রা ও বালুচর পর্যটকদের কাছে এক অনন্য অভিজ্ঞতার খোরাক যোগায়।
সব মিলিয়ে ধরলা নদী কুড়িগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সংগ্রামের এক অবিচ্ছেদ্য প্রতীক।
ধরলা নদী বাংলাদেশ-ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা "পাউবো" কর্তৃক ধরলা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ৫৯। প্রবাহ উৎপত্তিস্থল হিমালয়ে জলঢাকা বা শিংগিমারি নামে পরিচিত নদীটি পশ্চিম বঙ্গের জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে লালমনিরহাট জেলার, পাটগ্রাম দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। প্রবেশের পর নদীটি পাটগ্রাম থানার কাছে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়েছে এবং অকস্মাৎ বাঁক নিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বাংলাদেশ-ভারতের এই আন্তঃসীমান্ত নদীটি জলঢাকা নদীর সাথে মিলিত হয়ে মুলত ধরলা নামেই কুড়িগ্রামের কাছে ব্রহ্মপুত্র নদে মিশেছে। বিবরণ বাংলাদেশ অংশে ধরলার দৈর্ঘ্য ৭৫ কিলোমিটার। এর গড় গভীরতা ১২ ফুট বা ৩.৭ মিটার এবং কুড়িগ্রামে সর্বোচ্চ গভীরতা ৩৯ ফুট বা ১২ মিটার। উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে দীর্ঘ সড়ক সেতুটি এই নদীর উপর অবস্থিত। ৯৫০ মিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট পিসি গার্ডার সেতুটি ২য় ধরলা সেতু/শেখ হাসিনা ধরলা সেতু নামে ২০১৮ সালে চালু হয়। উপনদী ফুলবাড়ী থানার উপর দিয়ে প্রবাহিত নীলকুমার নামে ধরলার একটি উপনদী রয়েছে। নদীভাঙ্গন ২০০৭ সালে ধরলা নদী ও যমুনা নদীর ভাঙ্গনে কুড়িগ্রামের ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ২ কিলোমিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে তিনটি মসজিদ, দুইটি মন্দির, একটি মাদ্রাসা, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ফসলসহ আবাদযোগ্য জমি নদীগর্ভে হারিয়ে যায়। এতে তিন হাজারের অধিক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। আরও দেখুন বাংলাদেশের নদীর তালিকা বাংলাদেশের বড় নদীসমূহ পশ্চিমবঙ্গের নদীর তালিকা আন্তঃসীমান্ত নদী জলঢাকা নদী তথ্যসূত্র বহিঃসংযোগ


💬মন্তব্যসমূহ(0)
✏️মন্তব্য করুন