
তেঁতুলিয়া(Upazila)
উত্তরের শেষ সীমানায় হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া যেন প্রকৃতির এক অপরূপ ক্যানভাস।
ভৌগোলিকভাবে এ উপজেলাটি ভারতের জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার সাথে সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে।
এখান থেকে খুব কাছেই চোখে পড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার শুভ্র শিখর, যা শীতের সকালে আকাশ পরিষ্কার থাকলে এক মায়াবী দৃশ্যের অবতারণা করে।
মহানন্দা নদীর কোলঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা এই জনপদটি তার চা বাগানের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
সমতল ভূমিতে সারি সারি সবুজ চা বাগান আর দূরে পাহাড়ের হাতছানি তেঁতুলিয়াকে পর্যটকদের কাছে এক স্বপ্নের গন্তব্যে পরিণত করেছে।
এখানে অবস্থিত ‘বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট’ ও স্থলবন্দরটি বাংলাদেশের সাথে ভারত, নেপাল ও ভুটানের বাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।
স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের দিক থেকেও তেঁতুলিয়া বেশ সমৃদ্ধ; ব্রিটিশ আমলের ডাকবাংলো ও এর আশপাশের বাগান থেকে হিমালয়ের দৃশ্য উপভোগ করা ভ্রমণপিপাসুদের দীর্ঘদিনের অভ্যাস।
ডাহুক নদী ও তার আশপাশের পাথুরে ভূখণ্ড এলাকাটিকে দিয়েছে এক অনন্য রূপ।
স্থানীয়ভাবে এই এলাকাটি ‘চা-কন্যা’র দেশ হিসেবেও পরিচিত।
এখানকার বিখ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ভাষা সৈনিক ও প্রাবন্ধিক ড.
মযহারুল ইসলাম।
সাম্প্রতিক সময়ে তেঁতুলিয়া পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে; বিশেষ করে শীতকালে হিমালয় দেখার জন্য শত শত পর্যটকের ভিড় এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অর্গানিক চায়ের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা উপজেলাটিকে দেশের অর্থনীতি ও পর্যটন মানচিত্রে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।


💬মন্তব্যসমূহ(0)
✏️মন্তব্য করুন