চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনচট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন(City Corporation)
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান বন্দরনগরী চট্টগ্রামে অবস্থিত একটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান।
এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক মহানগরী হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিত।
একনজরে
- আয়তন
- ১৬১ দশমিক ৪১ বর্গকিলোমিটার
- জনসংখ্যা
- ৪৫ লাখ ৯১ হাজার ৫৮৩ (২০২২ আদমশুমারি)
- ওয়ার্ড সংখ্যা
- ৪১
- সীমানা
- উত্তরে সীতাকুণ্ড উপজেলা, দক্ষিণে কর্ণফুলী নদী ও পটিয়া উপজেলা, পূর্বে হাটহাজারী উপজেলা ও রাউজান উপজেলা, পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর
- প্রধান নদী
- কর্ণফুলী ও হালদা নদী
- সাক্ষরতার হার
- ৮৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ (২০২২ আদমশুমারি)
এই নগরীর অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও ব্যস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে খাতুনগঞ্জ, আসাদগঞ্জ, চাক্তাই, রিয়াজউদ্দিন বাজার, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা এবং জিইসি মোড়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে এখানে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর ও পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল।
এলাকাটির পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে কর্ণফুলী নদী এবং এর উত্তর দিকে রয়েছে হালদা নদী। পতেঙ্গা ও কাতেপাড়াসহ কর্ণফুলী নদীর মোহনায় কিছু সামুদ্রিক বৈশিষ্ট্য ও উপকূলীয় এলাকা রয়েছে।
ঐতিহাসিক ও ল্যান্ডমার্ক স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে সার্কিট হাউস, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন, টাইগার পাস, ডিসি হিল, লালদীঘি ময়দান, শাহ আমানত মাজার, বায়তুশ শরহ কমপ্লেক্স, এবং কালুরঘাট সেতু। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নের মধ্যে রয়েছে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র, যেখানে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করা হয়েছিল, এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ।
এ এলাকায় অবস্থিত সুপরিচিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (শহর ও বিভিন্ন ক্যাম্পাস), চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ক্যাম্পাস বা কার্যক্রমের পরিধি), চট্টগ্রাম কলেজ, সরকারি হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজ, এবং ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। স্বাস্থ্যসেবার জন্য উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, এবং শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি।
সড়ক, রেল ও আকাশপথে এই নগরীতে যাতায়াত করা যায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাধ্যমে সড়কপথে এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে রেলপথে দেশের অন্যান্য অংশের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়া শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিমান যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।
এখানে জন্ম নেওয়া বা সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক ও বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের মধ্যে রয়েছেন মাস্টারদা সূর্য সেন, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান, এবং কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।


💬মন্তব্যসমূহ(0)
✏️মন্তব্য করুন