লালমনিরহাট বিমানবন্দরলালমনিরহাট বিমানবন্দর(Airport)
উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা লালমনিরহাটের বুকে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে লালমনিরহাট বিমানবন্দর।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রশক্তির বিমানঘাঁটি হিসেবে নির্মিত এই স্থাপনাটি তৎকালীন কৌশলগত গুরুত্বের কারণে আজও স্থানীয়দের কাছে ‘বিমানবন্দর’ নামেই পরিচিত।
বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই রানওয়ে ও এর চারপাশের বিস্তীর্ণ প্রান্তর একসময়কার উত্তাল যুদ্ধের ইতিহাস ধারণ করে আছে, যা এখনকার শান্ত স্নিগ্ধ গ্রামীণ আবহের সাথে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি করে।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার এই স্থানটি কেবল একটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের মানুষের কাছে এক বিশাল সম্ভাবনার নাম, যেখানে বর্তমানে একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর ও এভিয়েশন হাব গড়ে তোলার দীর্ঘদিনের দাবি ও স্বপ্ন মিশে আছে।
এই এলাকার খুব কাছেই রয়েছে ঐতিহাসিক বুড়িমারী স্থলবন্দর ও তিস্তা ব্যারাজের মতো দর্শনীয় স্থাপনা, যা লালমনিরহাটের ভৌগোলিক গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।
এখানকার মানুষের জীবনযাত্রায় তিস্তা ও ধরলা নদীর প্রভাব অপরিসীম, যা এই জনপদের সংস্কৃতিকে করেছে বৈচিত্র্যময়।
এই অঞ্চলের মাটির টানে বেড়ে ওঠা ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ভাষা সৈনিক ও শিক্ষাবিদদের অবদান অনস্বীকার্য।
বর্তমানে বিমানবন্দর এলাকাটিকে ঘিরে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়’-এর কার্যক্রম শুরু হওয়া এই অঞ্চলের মানুষের জন্য এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।
কালের সাক্ষী এই বিমানবন্দরটি আজ কেবল স্মৃতি নয়, বরং আগামীর আধুনিক লালমনিরহাট গড়ার এক শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


💬মন্তব্যসমূহ(0)
✏️মন্তব্য করুন