দ্রুত • মোবাইল-ফ্রেন্ডলি • বাংলা/ইংরেজি
জেলা লোগো
টিপটপটিপটপ ডিভিশন
টিপটপ
যুক্ত হোন
কেনা-বেচা
সাইন ইনযোগ দিন/সাইনআপ
জেলা লোগোটিপটপ
যুক্ত হোনকেনা-বেচা
প্রতিষ্ঠানসমূহস্থান ঘুরে দেখুনচাকরিপ্রাইভেট টিউশন
নাগরিক আপডেটLIVEসংবাদ আপডেটভিডিও সংবাদ
সাইন ইনযোগ দিন/সাইনআপ
  1. হোম
  2. স্থান ঘুরে দেখুন
লোড হচ্ছে...

লোড হচ্ছে...

টিপটপ ডিভিশন

আপনার জেলার স্থান, মানুষ, তথ্য, চাকরি ও বাজার

সংক্ষিপ্ত লিংক

  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ করুন
  • প্রযুক্তিগত কাঠামো
  • সেবাসমূহ

আইনগত

  • গোপনীয়তা নীতি
  • পরিষেবার শর্তাবলী
  • দাবিত্যাগ

© 2026 টিপটপ ডিভিশন. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

♥আপনার বিভাগের মানুষের এর জন্য নির্মিত

মিঠাপুকুর, রংপুর

বালুয়া মাসিমপুর

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বুক চিরে জেগে থাকা এক শান্ত জনপদ হলো বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়ন। ভৌগোলিকভাবে এটি বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রান্তিক ও উর্বর ভূমির এক অনন্য মেলবন্ধন, যেখানে আবাদি জমির সবুজ গালিচা আর গ্রামীণ মেঠো পথ মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। যমুনা ও ঘাঘট নদীর অববাহিকার কাছাকাছি হওয়ায় এখানকার মাটি যেমন উর্বর, তেমনি এর মানুষগুলোর মনও নদীর মতোই সহজ-সরল। স্থানীয়দের কাছে এটি আদর করে ‘বালুয়া’ নামেই বেশি পরিচিত, যা এই জনপদের চিরচেনা পরিচয়। এলাকাটির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বালুয়া হাট বেশ প্রসিদ্ধ, যেখানে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে গ্রামীণ অর্থনীতির স্পন্দন অনুভূত হয়। স্থাপত্যিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি এখানকার সমাজজীবনে শিক্ষার আলো ছড়াতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলটি কৃষিপ্রধান হলেও, আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখানেও এখন পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। এই জনপদটির মাটি ও মানুষ নিয়ে কথা বলতে গেলে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে হয় স্থানীয় সেইসব গুণীজনদের কথা, যারা নিরলস পরিশ্রমে এই ইউনিয়নকে এগিয়ে নিতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে, বালুয়া মাসিমপুর শুধু একটি প্রশাসনিক নাম নয়, বরং এটি একটি অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির লালনভূমি, যা তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলেছে আগামীর পথে।

00
তিস্তা সড়ক সেতু
কাউনিয়া, রংপুর

তিস্তা সড়ক সেতু

রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলায় অবস্থিত তিস্তা সড়ক সেতু, যা স্থানীয়ভাবে ‘তিস্তা ব্রিজ’ নামে পরিচিত, উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন। এটি তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত একটি দীর্ঘ ও মজবুত কাঠামো, যা রংপুর ও লালমনিরহাট জেলাকে সরাসরি সংযুক্ত করেছে। ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি কেবল যাতায়াতের মাধ্যমই নয়, বরং নদীর বিশাল জলরাশি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার একটি চমৎকার স্থান। বর্ষাকালে নদীর উত্তাল রূপ এবং শুকনো মৌসুমে বিস্তীর্ণ চর ও বালুচরের দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। সেতুটির পাশেই অবস্থিত তিস্তা রেলওয়ে সেতু, যা ব্রিটিশ আমলের এক অনন্য প্রকৌশল নিদর্শন হিসেবে এখনো টিকে আছে এবং পর্যটকদের কাছে সমানভাবে আকর্ষণীয়। এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের দিক থেকে তিস্তা সেতু এলাকাটি বেশ পরিচিত। এখানকার স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা মূলত তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। নদীকেন্দ্রিক মাছ ধরা এবং চরাঞ্চলের কৃষি কাজ এখানকার অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। সাম্প্রতিক সময়ে তিস্তা নদীর ভাঙন রোধ এবং নদী ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করায় এলাকাটি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। এছাড়া, এই কাউনিয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন প্রখ্যাত ভাষাসৈনিক ও সাহিত্যিক মোজাহার হোসেন, যিনি এই অঞ্চলের গর্ব। সব মিলিয়ে, তিস্তা সেতু এলাকাটি একদিকে যেমন আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতীক, অন্যদিকে তেমনি প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়ার এক শান্ত ও মনোরম স্থান।

00
হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন
তারাগঞ্জ, রংপুর

হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন

রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অঞ্চল হলো হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নটি তারাগঞ্জ উপজেলার উত্তর-পশ্চিমাংশে অবস্থিত, যা ভৌগোলিকভাবে কৃষিপ্রধান ও উর্বর ভূমির জন্য পরিচিত। এখানকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল এবং ধান, গম, ভুট্টা ও শাকসবজি চাষে অঞ্চলটি বেশ সমৃদ্ধ। স্থানীয় লোকজনের কাছে এটি কেবল একটি ইউনিয়ন নয়, বরং তারাগঞ্জ উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ হিসেবে পরিচিত। অত্র এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা তুলনামূলক উন্নত, যা পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও জেলা শহরের সাথে সহজ সংযোগ স্থাপন করেছে। হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের প্রশাসনিক ও সামাজিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হলো হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। এলাকাটিতে বেশ কিছু প্রাচীন গ্রামীণ বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও সামাজিক বিকাশে ভূমিকা রাখছে। যদিও এই ইউনিয়নে খুব বড় কোনো পর্যটন কেন্দ্র নেই, তবে বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ ও গ্রামীণ নিসর্গ প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য প্রশান্তিদায়ক। সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল সেবা কার্যক্রমের প্রসারের ফলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি সহজতর হয়েছে। এই জনপদ থেকে উঠে আসা অনেক গুণী ব্যক্তি স্থানীয় সমাজসেবা ও শিক্ষা বিস্তারে অবদান রেখে চলেছেন। সামগ্রিকভাবে, হাড়িয়ারকুঠি একটি শান্ত ও সমৃদ্ধ জনপদ, যা তারাগঞ্জ উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়নে নিরন্তর ভূমিকা রেখে চলেছে।

00
কাবিলপুর ইউনিয়ন
পীরগঞ্জ, রংপুর

কাবিলপুর ইউনিয়ন

রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার একটি সমৃদ্ধ জনপদ হলো কাবিলপুর ইউনিয়ন। ভৌগোলিকভাবে এটি পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এবং এর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে করতোয়া নদী, যা অঞ্চলটিকে করেছে উর্বর ও কৃষিপ্রধান। এখানকার অর্থনীতি মূলত ধান, গম, ভুট্টা ও আলু চাষের ওপর নির্ভরশীল। ইউনিয়নটি তার শান্ত ও স্নিগ্ধ গ্রামীণ পরিবেশের জন্য পরিচিত। এখানকার উল্লেখযোগ্য স্থাপনার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রাচীন মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা স্থানীয় জনজীবনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে। এছাড়া, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে, যা এই অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে সহজতর করেছে। কাবিলপুর ইউনিয়নটি ঐতিহাসিকভাবে পীরগঞ্জ অঞ্চলের সংস্কৃতির সাথে মিশে আছে। যদিও এই ইউনিয়নের আলাদা কোনো ছদ্মনাম নেই, তবে পীরগঞ্জ এলাকাটি সামগ্রিকভাবে ‘রংপুরের প্রবেশদ্বার’ হিসেবে পরিচিত। এই জনপদের সবচেয়ে গর্বের বিষয় হলো—বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা পীরগঞ্জের পুত্রবধূ হওয়ায় এই অঞ্চলটি জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব ও পরিচিতি পেয়েছে। এছাড়া, স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ইউনিয়নটি প্রতিনিয়ত আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে, কাবিলপুর একটি সম্ভাবনাময় ও জনবহুল ইউনিয়ন, যা তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সহজ-সরল মানুষের আতিথেয়তার জন্য অনন্য।

00
বড়দরগাহ ইউনিয়ন
পীরগঞ্জ, রংপুর

বড়দরগাহ ইউনিয়ন

রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার একটি সমৃদ্ধ জনপদ হলো বড়দরগাহ ইউনিয়ন। এটি মূলত রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কেন্দ্র। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে এটি উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা, যেখানে কৃষিপ্রধান অর্থনীতির পাশাপাশি বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। এই ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে গেছে করতোয়া নদী ও এর শাখা-প্রশাখা, যা এখানকার ভূমিকে উর্বর করে তুলেছে। এখানকার আবহাওয়া ও জলবায়ু সাধারণত রংপুর অঞ্চলের অন্যান্য এলাকার মতোই মৃদু ও নাতিশীতোষ্ণ। বড়দরগাহর সবচেয়ে পরিচিত ও সর্বজনীন স্থাপনা হলো এর ঐতিহাসিক 'বড়দরগাহ জামে মসজিদ' ও সংলগ্ন বিশাল এলাকা, যার নামানুসারেই এই ইউনিয়নের নামকরণ হয়েছে বলে লোকমুখে প্রচলিত। এছাড়া এখানকার বড়দরগাহ হাট বা বাজার এলাকাটি স্থানীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই জনপদের কৃতি সন্তানদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, যার নির্বাচনী এলাকা পীরগঞ্জ এবং বড়দরগাহর সার্বিক উন্নয়নে তিনি বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছেন। বর্তমানে সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে এলাকাটি পীরগঞ্জের একটি আধুনিক ও সম্ভাবনাময় ইউনিয়ন হিসেবে ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে।

00
বালাপাড়া ইউনিয়ন
কাউনিয়া, রংপুর

বালাপাড়া ইউনিয়ন

রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার বুক চিরে বয়ে চলা তিস্তা অববাহিকার এক শান্ত ও স্নিগ্ধ জনপদের নাম বালাপাড়া ইউনিয়ন। ভৌগোলিকভাবে এটি তিস্তা নদীর পলি বিধৌত উর্বর ভূমি, যেখানে সবুজের সমারোহ আর নদীমাতৃক গ্রামীণ জীবনের মেলবন্ধন ঘটে প্রতিদিন। এই জনপদটি মূলত কৃষিপ্রধান, তবে ঐতিহ্যের ধারক হিসেবেও এর আলাদা পরিচিতি রয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘বালাপাড়া’ নামেই সুপরিচিত, তবে তিস্তার সান্নিধ্যে থাকায় একে অনেকে তিস্তাপাড়ের জনপদ বলেও অভিহিত করেন। বালাপাড়ার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বালাপাড়া বাজার ও গদাই বাজার, যেখানে প্রতিদিনের কেনাকাটার পাশাপাশি মানুষের সামাজিক মেলবন্ধন গড়ে ওঠে। এই অঞ্চলের স্থাপত্য বা দর্শনীয় স্থানের কথা বললে তিস্তা রেলসেতু ও এর সংলগ্ন বাঁধ এলাকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়, যা বিকেলের পড়ন্ত বিকেলে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক দারুণ গন্তব্য। ঐতিহাসিকভাবে এই এলাকাটি তিস্তার ভাঙন-গড়ার খেলার সাক্ষী, যা এখানকার মানুষকে করেছে সংগ্রামী ও সহনশীল। বালাপাড়ার কৃতি সন্তানদের মধ্যে স্থানীয় রাজনীতি ও সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তিত্বদের নাম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়, যারা এই জনপদের শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে নিরলস কাজ করে গেছেন। বালাপাড়ার এই শান্ত প্রকৃতি আর মানুষের সরলতা মিলে এটি কাউনিয়ার এক অনন্য জনপদে পরিণত হয়েছে।

00
পায়রা চত্বর
রংপুর সদর, রংপুর

পায়রা চত্বর

রংপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ‘পায়রা চত্বর’ কেবল একটি সংযোগস্থল নয়, বরং এটি উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত দলিল। শহরের জিরো পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত এই চত্বরটি আধুনিক নগরজীবনের ব্যস্ততা এবং প্রাচীন সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন। এর চারপাশ ঘিরে গড়ে উঠেছে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘পায়রা চত্বর’ নামেই সমাদৃত, যদিও শহরের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এটি ঐতিহাসিকভাবেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনশ্রুতি আছে, একসময় এই চত্বরে পায়রার ঝাঁক শান্তির প্রতীক হয়ে উড়ে বেড়াত, যা থেকেই এর এমন কাব্যিক নামকরণ। ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক বিচারে পায়রা চত্বরের অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর পাশেই অবস্থিত ঐতিহাসিক কারমাইকেল কলেজ ও দর্শনীয় তাজহাট জমিদার বাড়ি, যা রংপুরের আভিজাত্যের সাক্ষ্য বহন করে। চত্বরের অদূরেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী সিটি বাজার, যেখানে উত্তরবঙ্গের কৃষি ও হস্তশিল্পের সমাহার ঘটে। এই চত্বরটি রংপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনেরও সাক্ষী; বিভিন্ন সময়ে এখানে সমবেত হয়েই মানুষ নিজেদের দাবি-দাওয়া ও অধিকারের কথা তুলে ধরেছে। আধুনিক স্থাপত্যের সাথে তাল মিলিয়ে এখানে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা, যা প্রতিদিন হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে। রংপুরের কৃতী সন্তান ও প্রখ্যাত ভাষাসৈনিক মসিউর রহমান যাদু মিয়ার মতো ব্যক্তিত্বদের স্মৃতিবিজড়িত এই জনপদ আজও তাঁদের আদর্শ ও প্রেরণাকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে।

00
সদ্যপুস্করণী ইউনিয়ন
রংপুর সদর, রংপুর

সদ্যপুস্করণী ইউনিয়ন

রংপুর সদর উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অঞ্চল হলো সদ্যপুস্করনী ইউনিয়ন। ভৌগোলিকভাবে এটি রংপুর শহরের উপকণ্ঠ ঘেঁষে অবস্থিত এবং এর অধিকাংশ ভূমি উর্বর কৃষিপ্রধান সমতল অঞ্চল। ইউনিয়নটির নামকরণ নিয়ে লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, প্রাচীনকালে এখানে একটি বিশাল ও সুন্দর পুষ্করিণী (পুকুর) ছিল, যা থেকে পরবর্তীতে 'সদ্যপুস্করনী' নামের উৎপত্তি। এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রধানত সড়কপথ নির্ভর, যা ইউনিয়নটিকে রংপুর শহরের সাথে সহজভাবে সংযুক্ত করেছে। এলাকাটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ঐতিহ্যের ধারক বিভিন্ন জলাশয় ও গ্রামীণ পরিবেশ। এখানে বিশেষ কোনো ঐতিহাসিক স্থাপত্য না থাকলেও এটি তার শান্ত ও স্নিগ্ধ প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য পরিচিত। শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবকদের পদচারণায় মুখর এই ইউনিয়নে স্থানীয় শিক্ষার প্রসারে একাধিক বিদ্যালয় ও ধর্মীয় উপাসনালয় রয়েছে, যা সামাজিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে। এছাড়া, কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় হাটবাজারগুলোর প্রাণচাঞ্চল্য এই ইউনিয়নের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। সাম্প্রতিক সময়ে আধুনিক নাগরিক সুবিধার ছোঁয়া লাগায় অঞ্চলটি আবাসন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ক্ষেত্রেও ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

00
লোহানীপাড়া ইউনিয়ন
বদরগঞ্জ, রংপুর

লোহানীপাড়া ইউনিয়ন

রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার বুক চিরে বয়ে চলা এক স্নিগ্ধ জনপদের নাম লোহানীপাড়া ইউনিয়ন। তিস্তা ও যমুনেশ্বরী বিধৌত এই জনপদ যেন প্রকৃতির এক অকৃপণ দান। দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ, যেখানে ঋতুভেদে সবুজের সমারোহ আর সোনালী ধানের দোলা প্রকৃতির এক অপরূপ ক্যানভাস তৈরি করে। এখানকার গ্রামীণ মেঠোপথ আর ছায়া সুনিবিড় গ্রামগুলো যেন এক শান্ত পৃথিবীর গল্প বলে। এই ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট ছোট খাল-বিল আর গাছপালা ঘেরা বসতবাড়িগুলো একে দিয়েছে এক অনন্য সজীবতা, যা শহুরে কোলাহল থেকে অনেক দূরে এক নির্মল প্রশান্তির আবেশ তৈরি করে। লোহানীপাড়ার মাটির সাথে জড়িয়ে আছে সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এই এলাকায় শিক্ষার প্রসারে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থানীয়দের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করছে। এখানকার মানুষের জীবনযাত্রায় মিশে আছে অকৃত্রিম আতিথেয়তা। স্থানীয়ভাবে এই অঞ্চলটি তার কৃষিজ সম্পদের জন্য পরিচিত, বিশেষ করে ধান ও রবি শস্যের ব্যাপক ফলন এই এলাকার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে। সম্প্রতি গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, যেমন—পাকা রাস্তা ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসারের ফলে লোহানীপাড়া বদরগঞ্জ উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। এলাকার উন্নয়নে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এই জনপদকে প্রতিনিয়ত সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যা লোহানীপাড়াকে করে তুলেছে এক সম্ভাবনাময় ও প্রাণবন্ত ইউনিয়ন।

00

127 ফলাফল · পৃষ্ঠা 1 এর মধ্যে 15

…