দ্রুত • মোবাইল-ফ্রেন্ডলি • বাংলা/ইংরেজি
জেলা লোগো
টিপটপটিপটপ ডিভিশন
টিপটপ
যুক্ত হোন
কেনা-বেচা
সাইন ইনযোগ দিন/সাইনআপ
জেলা লোগোটিপটপ
যুক্ত হোনকেনা-বেচা
প্রতিষ্ঠানসমূহস্থান ঘুরে দেখুনচাকরিপ্রাইভেট টিউশন
নাগরিক আপডেটLIVEসংবাদ আপডেটভিডিও সংবাদ
সাইন ইনযোগ দিন/সাইনআপ
  1. হোম
  2. স্থান ঘুরে দেখুন
লোড হচ্ছে...

লোড হচ্ছে...

টিপটপ ডিভিশন

আপনার জেলার স্থান, মানুষ, তথ্য, চাকরি ও বাজার

সংক্ষিপ্ত লিংক

  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ করুন
  • প্রযুক্তিগত কাঠামো
  • সেবাসমূহ

আইনগত

  • গোপনীয়তা নীতি
  • পরিষেবার শর্তাবলী
  • দাবিত্যাগ

© 2026 টিপটপ ডিভিশন. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

♥আপনার বিভাগের মানুষের এর জন্য নির্মিত

সূর্যপুরী আমগাছ
বালিয়াডাঙ্গী, ঠাকুরগাঁও

সূর্যপুরী আমগাছ

ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় অবস্থিত 'সূর্যপুরী আমগাছ' কেবল একটি উদ্ভিদ নয়, বরং এটি আমাদের ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষী। প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এই বিশাল মহীরুহটি স্থানীয়দের কাছে 'বিস্ময়বৃক্ষ' হিসেবেও পরিচিত। প্রায় আড়াই বিঘা জমির ওপর বিস্তৃত এর ডালপালা যেন এক বিশাল ছাতার মতো ছায়া দিয়ে রেখেছে পুরো এলাকাটিকে। ভৌগোলিকভাবে এটি লাহীড়িপাড়া ইউনিয়নের সূর্যপুর গ্রামে অবস্থিত, যা বালিয়াডাঙ্গী সদর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটারের দূরত্বে। এর পাশেই রয়েছে ঐতিহাসিক রাজা সূর্যনারায়ণের স্মৃতিবিজড়িত কিছু স্থাপনা এবং পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বিখ্যাত 'নেকমরদ মাজার'। এই গাছটিকে ঘিরে স্থানীয় লোকগাথা ও ঐতিহ্যের এক চমৎকার মেলবন্ধন রয়েছে। কথিত আছে, এর নিচে বসেই একসময় এলাকার বিচার-সালিশ থেকে শুরু করে সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। বর্তমানে এটি জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে একটি সংরক্ষিত পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। এলাকার প্রবীণরা আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন স্বাধীনতা সংগ্রামে এই গাছের ভূমিকা এবং এর নিচে আশ্রয় নেওয়া মানুষের কথা। বালিয়াডাঙ্গী অঞ্চলের গর্ব এই সূর্যপুরী আমগাছটি আজও অটুট স্বকীয়তায় আমাদের শিকড় ও ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়, যা ঠাকুরগাঁওয়ের সাংস্কৃতিক মানচিত্রে এক অনন্য সংযোজন।

00
শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম
ঠাকুরগাঁও সদর, ঠাকুরগাঁও

শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম

ঠাকুরগাঁও শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম জেলার ক্রীড়াঙ্গনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। ভৌগোলিকভাবে এটি শহরের টাঙ্গন নদীর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত, যা এর পরিবেশকে বেশ মনোরম করে তুলেছে। স্টেডিয়ামটির নামকরণ করা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ঠাকুরগাঁওয়ের কৃতি সন্তান শহীদ মোহাম্মদ আলীর স্মরণে। বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই স্টেডিয়ামে গ্যালারিসহ ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার সুব্যবস্থা রয়েছে, যা স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রতি বছর এই স্টেডিয়ামটি জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পাশাপাশি সরকারি ও জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রধান ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি কেবল খেলার মাঠ নয়, বরং শহরের মানুষের প্রাত্যহিক প্রাতঃভ্রমণ ও শরীরচর্চার অন্যতম সর্বজনীন স্থান। সাম্প্রতিক সময়ে স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দর্শকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা ঠাকুরগাঁওয়ের ক্রীড়া সংস্কৃতিকে আরও বেগবান করছে।

00
লেহেম্বা ইউনিয়ন
রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও

লেহেম্বা ইউনিয়ন

ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অঞ্চল হলো লেহেম্বা ইউনিয়ন। ভৌগোলিকভাবে এটি উপজেলার দক্ষিণ-পূর্বাংশে অবস্থিত এবং এর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কুলিক নদীসহ বিভিন্ন ছোট খাল ও বিল, যা অঞ্চলটির কৃষি ও জীববৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে। ঐতিহাসিকভাবে এই এলাকাটি তার উর্বর জমি এবং ধান, গম ও ভুট্টা চাষের জন্য সুপরিচিত। গ্রামীণ শান্ত পরিবেশে ঘেরা এই ইউনিয়নে বেশ কিছু প্রাচীন ঘরবাড়ি এবং স্থানীয় হাটবাজার রয়েছে, যা এখানকার মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র। ইউনিয়নটির কোনো বিকল্প বা প্রচলিত নাম না থাকলেও, স্থানীয়ভাবে এটি একটি সমৃদ্ধ কৃষিভিত্তিক জনপদ হিসেবে পরিচিত। লেহেম্বা ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি এখানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা রয়েছে, যা স্থানীয় জনজীবনকে প্রভাবিত করে। পর্যটনের ক্ষেত্রে সরাসরি বড় কোনো স্থাপনা না থাকলেও, রাণীশংকৈল উপজেলার ঐতিহাসিক 'নেকমরদ মাজার' বা 'রামরাই দিঘি'র মতো দর্শনীয় স্থানগুলোর কাছাকাছি হওয়ায় এটি পর্যটকদের যাতায়াতের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করে। সম্প্রতি এই ইউনিয়নে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, রাণীশংকৈল উপজেলা তথা ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের কৃতি সন্তানদের পদচারণায় এই জনপদ সমৃদ্ধ, তবে সুনির্দিষ্টভাবে লেহেম্বা থেকে উঠে আসা কোনো জাতীয় পর্যায়ের ব্যক্তিত্বের নাম স্থানীয় নথিপত্রে খুব একটা প্রচলিত নয়। মূলত কৃষিনির্ভর অর্থনীতি এবং সহজ-সরল গ্রামীণ জীবনযাত্রাই এই ইউনিয়নের মূল বৈশিষ্ট্য।

00
খনগাঁও ইউনিয়ন
পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও

খনগাঁও ইউনিয়ন

ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার এক নিভৃত ও শান্ত জনপদ খনগাঁও ইউনিয়ন। টাঙ্গন নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা এই জনপদটি তার উর্বর ভূমি এবং স্নিগ্ধ প্রকৃতির জন্য পরিচিত। উত্তরের জনজীবনের চিরচেনা ধীরস্থির গতি এখানে আজও বিদ্যমান, যেখানে দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ আর গ্রামীণ মেঠো পথ মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। ভৌগোলিকভাবে খনগাঁও তার অবস্থানগত স্বকীয়তা ধরে রেখেছে, যা পীরগঞ্জ উপজেলার সামগ্রিক কৃষি ও অর্থনীতির বিকাশে এক নীরব অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। এলাকাটি খুব বেশি কোলাহলপূর্ণ না হলেও এর নিজস্ব কিছু পরিচিতি রয়েছে। খনগাঁও হাট এখানকার মানুষের নিত্যদিনের লেনদেন ও পারস্পরিক যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয় স্থাপত্য ও স্থাপনাগুলোর মধ্যে এখানকার প্রাচীন মসজিদ ও বিদ্যালয়গুলো ঐতিহ্যের ছাপ বহন করে। যদিও এটি কোনো পর্যটন নগরী নয়, তবুও বর্ষাকালে টাঙ্গন নদীর তীরের শান্ত পরিবেশ যে কাউকেই মুগ্ধ করার মতো। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলটি কৃষিপ্রধান এবং এখানকার মানুষের সহজ-সরল জীবনযাত্রা এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। এ অঞ্চলের কৃতি সন্তানদের মধ্যে সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগীদের অবদান সর্বজনবিদিত, যারা নীরবে-নিভৃতে এই জনপদের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে গেছেন। সব মিলিয়ে খনগাঁও কেবল একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়, বরং এটি ঠাকুরগাঁওয়ের মাটির গভীরে মিশে থাকা একটি ছোট অথচ প্রাণবন্ত জনপদের নাম।

00
রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও

রাতোর ইউনিয়ন

ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার বুক চিরে বয়ে চলা এক শান্ত জনপদ রাতোর ইউনিয়ন। কুলিক নদীর কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা এই এলাকাটি তার উর্বর ভূমি এবং সবুজে ঘেরা নিভৃত প্রকৃতির জন্য পরিচিত। গ্রামবাংলার চিরাচরিত স্নিগ্ধতায় মোড়া এই ইউনিয়নের দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ এবং মেঠোপথগুলো যেন এক জীবন্ত ক্যানভাস। এখানকার মানুষের জীবনধারা অত্যন্ত সহজ-সরল, যেখানে কৃষিকাজই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে এটি উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে রাণীশংকৈল সদরের সাথে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। ঐতিহ্য আর ইতিহাসের ছোঁয়ায় সমৃদ্ধ রাতোর ইউনিয়নে বেশ কিছু প্রাচীন স্থাপনা ও ধর্মীয় নিদর্শন রয়েছে, যা স্থানীয়দের কাছে পরম শ্রদ্ধার জায়গা। এখানকার গ্রামীণ জনপদে উৎসব-পার্বণে যে সম্প্রীতির মেলবন্ধন দেখা যায়, তা সত্যিই অনুকরণীয়। সাম্প্রতিক সময়ে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এসেছে, যা স্থানীয় কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে নতুন গতি সঞ্চার করেছে। এছাড়া, এখানকার মানুষের আতিথেয়তা এবং ঐতিহ্যবাহী লোকজ সংস্কৃতি এই জনপদকে অনন্য করে তুলেছে। ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণে রাতোর এখন রাণীশংকৈল উপজেলার একটি সম্ভাবনাময় এবং ক্রমবর্ধমান জনপদ হিসেবে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছে।

00
আউলিয়াপুর ইউনিয়ন
ভূল্লী, ঠাকুরগাঁও

আউলিয়াপুর ইউনিয়ন

ঠাকুরগাঁও জেলার নবগঠিত ভূল্লী উপজেলার বুক চিরে বয়ে চলা এক শান্ত জনপদ হলো আউলিয়াপুর ইউনিয়ন। ভৌগোলিকভাবে এটি আত্রাই নদীর তীরবর্তী এক উর্বর পলল ভূমি, যা তার সবুজ ফসলের মাঠ এবং শান্ত প্রকৃতির জন্য পরিচিত। এই ইউনিয়নটি মূলত কৃষিপ্রধান হলেও এর প্রতিটি ধুলিকণায় মিশে আছে লোকজ ঐতিহ্যের ঘ্রাণ। এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা সহজ-সরল, আর স্থানীয় হাটবাজারগুলো—বিশেষ করে ভূল্লী বাজার—এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। দর্শনীয় স্থানের কথা বললে, এখানকার গ্রামীণ মেঠোপথ আর দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ যে কাউকে মুগ্ধ করবে। স্থানীয়ভাবে এই এলাকাটি অনেক সময় 'ভূল্লীর প্রবেশদ্বার' হিসেবেও পরিচিত, কারণ এটি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যাতায়াতের এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। আউলিয়াপুরের মাটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক গুণী মানুষের স্মৃতি। এখানকার কৃতি সন্তানদের মধ্যে স্থানীয় রাজনীতি ও সমাজসেবায় অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাব স্পষ্ট, যারা এই ইউনিয়নকে আজ একটি সুসংগঠিত জনপদে রূপান্তর করতে ভূমিকা রেখেছেন। সম্প্রতি ভূল্লী থানা ও উপজেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর আউলিয়াপুর ইউনিয়নের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নতুন জোয়ারে এই জনপদটি এখন আধুনিকতার ছোঁয়া পেতে শুরু করেছে, তবে তার প্রাচীন গ্রামীণ ঐতিহ্য ও আতিথেয়তা আজও অমলিন। এখানকার মানুষের আড্ডায় আজও আত্রাই নদীর গল্প আর ফসলের মাঠের সোনালি স্বপ্নের কথকতা শোনা যায়, যা এই জনপদকে এক অনন্য মানবিক রূপ দিয়েছে।

00
ডিসি পর্যটন পার্ক
ঠাকুরগাঁও সদর, ঠাকুরগাঁও

ডিসি পর্যটন পার্ক

ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ‘ডিসি পর্যটন পার্ক’ (যা স্থানীয়ভাবে ‘ডিসি পার্ক’ নামেই বেশি পরিচিত) জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা একটি মনোরম বিনোদন কেন্দ্র। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার টাঙ্গন নদীর কোলঘেঁষে অবস্থিত এই পার্কটি বর্তমানে জেলার অন্যতম জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। নান্দনিক ল্যান্ডস্কেপিং, সুসজ্জিত হাঁটার পথ, ফোয়ারা এবং শিশুদের খেলার বিভিন্ন রাইড পার্কটির মূল আকর্ষণ। এছাড়া এখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও ফুলের বাগান থাকায় পরিবেশটি বেশ স্নিগ্ধ ও সতেজ থাকে, যা দর্শনার্থীদের প্রশান্তি দেয়। পার্কটির মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর খোলামেলা পরিবেশ এবং টাঙ্গন নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা প্রাকৃতিক দৃশ্য। পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। পার্কের ভেতরে স্থাপিত বিভিন্ন ভাস্কর্য ও বসার স্থানগুলো এর সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ঠাকুরগাঁও জেলা ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল, যেখানে দেশবরেণ্য অনেক গুণী মানুষের জন্ম হয়েছে; যাদের মধ্যে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং খ্যাতিমান লেখক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের পৈতৃক নিবাস এই জেলাতেই অবস্থিত। সাম্প্রতিক সময়ে পার্কটিকে আরও আধুনিকায়ন করা হয়েছে, যার ফলে বিকেলে স্থানীয়দের ভিড় এখানে উপচে পড়ে। সব মিলিয়ে ঠাকুরগাঁও ভ্রমণে এলে স্নিগ্ধ সময় কাটানোর জন্য ডিসি পর্যটন পার্ক এক চমৎকার গন্তব্য।

00
পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও

পীরগঞ্জ পৌরসভা

ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পীরগঞ্জ পৌরসভা একটি সমৃদ্ধ জনপদ। ভৌগোলিকভাবে এটি টাঙ্গন নদীর অববাহিকায় গড়ে উঠেছে, যা এই এলাকাকে কৃষি ও বাণিজ্যের দিক থেকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। পৌর এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদী ও সমতল ভূমি এর ভূ-প্রকৃতিকে শান্ত ও মনোরম রূপ দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পীরগঞ্জ পৌর বাজারটি প্রতিদিন হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বের দিক থেকে এখানে বেশ কিছু প্রাচীন মসজিদ ও মন্দির রয়েছে, যা স্থানীয় ঐতিহ্যের ধারক। এছাড়া পীরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই পৌরসভার শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক সময়ে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পৌর এলাকাটিতে আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কাজ চলমান রয়েছে, যা একে একটি আদর্শ জনপদে রূপান্তর করছে। এই জনপদটি একসময় 'পীরগঞ্জ হাট' নামে পরিচিত ছিল, যা থেকে ধীরে ধীরে আজকের এই আধুনিক পৌরসভার উদ্ভব। এলাকার সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ও গুণীজনদের অবদানে স্থানীয় সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে পীরগঞ্জ সবসময়ই সরব। ঠাকুরগাঁও জেলার উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই পৌরসভাটি তার ভৌগোলিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বৃহত্তর পীরগঞ্জ অঞ্চলের চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

00
রানীশংকৈল
রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও

রানীশংকৈল

ঠাকুরগাঁও জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হলো রাণীশংকৈল। ভৌগোলিকভাবে এটি কুলিক ও নাগর নদী বিধৌত একটি জনপদ, যা তার উর্বর ভূমি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। প্রাচীনকালে এই অঞ্চলটি 'ভাটপাড়া' নামেও পরিচিত ছিল। রাণীশংকৈল তার ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত; এখানকার উল্লেখযোগ্য স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক 'নেকমরদ মাজার শরিফ', যা আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এছাড়া এখানকার স্থাপত্যশৈলী সমৃদ্ধ 'রাণীশংকৈল রাজবাড়ি' এবং 'পাগলা পীরের মাজার' পর্যটকদের বেশ আকর্ষণ করে। প্রতি বছর নেকমরদে অনুষ্ঠিত বিশাল মেলা এই অঞ্চলের ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা দূর-দূরান্ত থেকে মানুষের সমাগম ঘটায়। উপজেলাটির অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর, যেখানে ধান ও গমের পাশাপাশি বিভিন্ন রবিশস্যের ব্যাপক চাষাবাদ হয়। সাম্প্রতিক সময়ে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখানকার কৃষিপণ্য দেশের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিক্ষার হার ও সচেতনতা বৃদ্ধিতেও উপজেলাটি নিরন্তর এগিয়ে চলেছে। রাণীশংকৈলের মাটির কৃতি সন্তানদের মধ্যে অন্যতম হলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. হুমায়ূন আহমেদের পৈতৃক নিবাস ও শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত অঞ্চল হিসেবেও এটি অনেকের কাছে পরিচিত। সব মিলিয়ে, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং কৃষিপ্রধান অর্থনীতির এক অনন্য সমন্বয় হলো রাণীশংকৈল।

00

88 ফলাফল · পৃষ্ঠা 1 এর মধ্যে 10

…