যে মসজিদে একসঙ্গে নামাজ পড়েন বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষ কুড়িগ্রামের ভূরঙ্গামারী উপজেলার বাঁশজানি সীমান্তে অবস্থিত "দক্ষিণ বাঁশজানী ঝাকুয়াটারী জামে মসজিদ" (সীমান্ত জামে মসজিদ) এমন একটি অনন্য স্থান, যেখানে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের মানুষ প্রতিদিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন। এটি দুই দেশের মানুষের মাঝে দীর্ঘ প্রায় ২০০ বছর ধরে অহিংস সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য সেতুবন্ধন হিসেবে টিকে রয়েছে। এই ঐতিহাসিক মসজিদটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো: 📍 ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানাঅবস্থান: মসজিদটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্য রেখায় (জিরো পয়েন্ট) বাংলাদেশের ভূখণ্ডে নির্মিত হয়েছে। পিলার নম্বর: বাংলাদেশ ও ভারত সীমানার আন্তর্জাতিক মেইন পিলার নং ৯৭৮ এর সাব পিলার ৯ এসের পাশে এটি অবস্থিত।দুই পাশের গ্রাম এর দক্ষিণে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার ভূরঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের দক্ষিণ বাঁশজানি গ্রাম এবং উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ (বা দিনহাটা) থানার ঝাকুয়াটারী গ্রাম। 🤝 সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন যৌথ সমাজ: ১৯৪৭ সালে দেশভাগ হলেও এই অঞ্চলের মানুষের মন ও সমাজ বিভক্ত হয়নি। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই মসজিদে দুই দেশের প্রায় শতাধিক পরিবারের মানুষ নামাজ পড়েন। মুক্ত চলাচল: আজানের ধ্বনি শোনার সাথে সাথে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি ও বিএসএফ) শিথিলতার কারণে কোনো বাধা ছাড়াই দুই বাংলার মুসল্লিরা মসজিদে ছুটে আসেন। সৌহার্দ্য: নামাজের পর দুই দেশের মানুষ একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় করেন, কোলাকুলি করেন এবং সুখ-দুঃখের গল্প ভাগাভাগি করেন। জুম্মার দিন বা বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সবাই মিলে একসঙ্গে বসে শিরনি বা তবারক গ্রহণ করেন। 🏗️ বর্তমান অবস্থা ও অবকাঠামোগত সংকটজরাজীর্ণ ভবন: প্রায় দুই শত বছরের পুরোনো এই ঐতিহাসিক মসজিদটির বর্তমান অবকাঠামোগত অবস্থা বেশ জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোড়া। যৌথ রক্ষণাবেক্ষণ: দুই দেশের গ্রামের মানুষ নিজেদের ব্যক্তিগত ও যৌথ আর্থিক সহায়তায় মসজিদটি সাময়িকভাবে সংস্কার করে টিকিয়ে রেখেছেন। আইনি জটিলতা: সীমান্ত আইন (নো-ম্যানস ল্যান্ডে ১৫০ গজের ভেতর পাকা স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা) ও আইনি জটিলতার কারণে এর কোনো স্থায়ী বহুতল বা আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। দুই দেশের স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আইনি জটিলতা কাটিয়ে যেন এই ঐতিহাসিক সম্প্রীতির প্রতীকটিকে সুন্দরভাবে সংস্কার করা হয়।


