সন্দ্বীপসন্দ্বীপ(Upazila)
সন্দ্বীপ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা, যা জেলা সদর থেকে উত্তর-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের বুকে মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত।
স্থানটি এর দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত, প্রাচীন ঐতিহ্য, ঐতিহ্যবাহী সন্দ্বীপি মিষ্টি এবং নদীভাঙন রোধের সংগ্রামের জন্য পরিচিত।
একনজরে
- আয়তন
- প্রায় ৩৯৯.৭৩ বর্গকিলোমিটার
- জনসংখ্যা
- ৩,৬২,৩৬১ জন (২০২২ আদমশুমারি)
- ইউনিয়নের সংখ্যা
- ১৪টি (আমানউল্যা, আজিমপুর, বাউরিয়া, গাছুয়া, হারামিয়া, হরিশপুর, কালাপানিয়া, মগধরা, মাইটভাঙ্গা, মুছাপুর, রহমতপুর, সন্তোষপুর, সারিকাইত ও উড়িরচর)
- সীমানা
- উত্তরে নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ ও হাতিয়া উপজেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে সীতাকুণ্ড, মীরসরাই ও সন্দ্বীপ চ্যানেল, পশ্চিমে নোয়াখালী জেলা ও হাতিয়া উপজেলা
- প্রধান নদী
- মেঘনা নদী ও সন্দ্বীপ চ্যানেল
- পোস্ট কোড
- ৪৩১৫
সন্দ্বীপ চারদিক থেকে নদী ও সাগর দ্বারা বেষ্টিত একটি উপকূলীয় দ্বীপ। এর পূর্ব দিকে সন্দ্বীপ চ্যানেল এবং উত্তর ও পশ্চিমে মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। উপজেলার বিভিন্ন অংশে জেগে উঠেছে উর্বর চর, যার মধ্যে উড়িরচর উল্লেখযোগ্য। ঘন ঘন নদীভাঙন এখানকার ভূপ্রকৃতির একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য, যার কারণে দ্বীপটির আয়তন ও ভৌগোলিক আকৃতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়।
ঐতিহাসিকভাবে সন্দ্বীপ একটি প্রাচীন জনপদ এবং চন্দ্রদ্বীপ নামেও পরিচিত ছিল। পর্তুগিজ ও মগ জলদস্যুদের আস্তানা হিসেবে ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে এই দ্বীপটি অত্যন্ত আলোচিত ছিল। এখানে বেশ কিছু প্রাচীন মসজিদ ও ঐতিহাসিক দিঘী রয়েছে, যা প্রাচীন জনবসতির সাক্ষ্য বহন করে।
সন্দ্বীপে যাতায়াত মূলত জলপথের ওপর নির্ভরশীল। চট্টগ্রাম সদর থেকে বা সীতাকুণ্ডের কুমিরা ঘাট থেকে ট্রলার, স্পিডবোট ও সি-ট্রাকের মাধ্যমে সন্দ্বীপে যাতায়াত করতে হয়। এছাড়া নোয়াখালীর চেয়ারম্যান ঘাট থেকেও সন্দ্বীপে যাতায়াতের নৌপথ চালু রয়েছে।
এখানকার কৃতি ব্যক্তিত্বদের মধ্যে স্বাধীনতা সংগ্রামের সংগঠক ও রাজনীতিবিদদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।


💬মন্তব্যসমূহ(0)
✏️মন্তব্য করুন